দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেবে ‘বায়োনিক চোখ’ যার দৃষ্টিক্ষমতা মানুষের চোখের থেকেও বেশি

বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষকে আশার আলো দেখাচ্ছে হংকং ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেদের তৈরি ‘বায়োনিক চোখ’ যা দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে পারে। ভিডিও দেখতে ইউটিউব এ গিয়ে সার্চ করুন EEE INFO BD.
গবেষকেরা দাবি করছেন, তাঁরা ইতিমধ্যে এ রোবোটিক চোখ নিয়ে পরীক্ষা করেছেন। একে বলা হচ্ছে ইলেকট্রোকেমিক্যাল আই বা ইসি যা মানুষের রেটিনা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এ বায়োনিক চোখ আগামী ৫ বছরের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী হবে।

বায়োনিক চোখ মূলত মানুষের রেটিনার মতোই কাজ করে। এ জন্য কাঠামোগত যত নিখুঁত নকশা প্রয়োজন তা যুক্ত করেছেন গবেষকেরা।
মানুষের চোখের মতোই কার্যক্ষম ডিভাইসটি উচ্চ রেজুলেশন ধারণ করতে পারে। এতে থাকা ক্ষুদ্র সেন্সর ছবিকে রূপান্তর করতে পারে, যা মানুষের চোখের আলোকসংবেদী কোষের অনুরূপ। এই সেন্সরগুলো অ্যালুমিনিয়াম এবং টাংস্টেন দিয়ে তৈরি একটি ঝিল্লির মধ্যে থাকে, যা মানুষের রেটিনা নকল করার উদ্দেশ্যে অর্ধ গোলকের আকারে তৈরি।

এতে চোখের মনি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে সিলিকন যার মধ্যে রেটিনা বসানো থাকে। এর মধ্যেকার জায়গায় জৈব জেলকে অনুকরণ করে বসানো হয় আয়োনিক তরল যা লেন্স এবং এর পিছনে রেটিনার মধ্যে একটি বাফার গঠন করে।

এই বায়োনিক চোখের জন্য রোগীর চোখে বসানো হয় মাইক্রো চিপ ও ওয়্যারলেস antenna সম্বলিত সার্কিট যা চোখের অপটিক্যাল নার্ভ কে সিগনাল অনুযাই ইলেকট্রিকাল impulse পাঠায়। আর বাহিরে একটা চশমা তে বসানো ক্যামেরা ও ওয়্যারলেস antenna এর সাহায্যে ভিতরে সিগনাল পাঠানো হয়।

বর্তমানে এটি ৬০ টি মাইক্রোচিপ এর সাহায্যে ৬০ টি পিক্সেল নিয়ে কাজ করতে পারে। যদিও এটি আসল চোখের resolution এর তুলনায় অনেক কম কিন্তু যারা অন্ধ তাদের জন্য এটি এক বিশাল পাওয়া। তবে রিসার্চ টীম ২৫৬ ও ১০২৬ পিক্সেল নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তারা ৭০ বছর বয়স এর একজন অন্ধ মানুষের উপর এটি পরীক্ষা করেছেন যিনি ২০ বছর বয়সে দৃষ্টি হারান।

হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ঝিয়ং ফ্যান এবং তার সহকর্মীরা আশা করছেন, প্রযুক্তিটি ৫ বছরের মধ্যে উত্পাদন এবং প্রতিস্থাপনের জন্য ব্যবহারিক হয়ে উঠবে। এর বিশেষত্ব হবে এটি মানুষের চোখের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হবে।
অধ্যাপক ফ্যান বলেন, ‘আমরা বায়ো-সামঞ্জস্যতা, স্থায়িত্ব এবং পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে আমাদের ডিভাইসটিকে আরও উন্নত করতে চাই। ‘

সময় নিয়ে লেখাটি পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *